ছড়া - কবিতা ৩ । চৈত্র ১৪৩১





   বৌবাজারে 














প্রদীপ  রঞ্জন  দাস 

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ



এই তো সেদিন, বনগাঁর এক আপন ভোলা ছেলে,
বৌবাজারেই এসেছিল হাজারো কাজ ফেলে।
চারদিকে সে ঘুরছিল খুব হন্যে হয়ে কী যে!
কেউ জানে না কারণটা কী, ওই জানে তা নিজে।
বৌবাজারের গলিঘুঁজি সব ঘুরে একটানা,
হঠাৎ করে দেখতে পেল এক লোক তার জানা।
ওকে দেখেই বলল সে’ লোক–– চললি কোথায় ভুতো?
কী চেহারা!  উসকোখুসকো, ধুলোয় মাখা জুতো!

খাসনি বুঝি সকাল থেকেই? এই কী রে তোর হাল!
এইখানেতে কবে এলি? আজ নাকি রে কাল?
ব্যাপারটা কী বলতো দেখি অ্যাই এখানে দাঁড়া,
ছটফটানি কীসের অ্যাতো? কোথায় যাবার তাড়া?
আয়, এখানে বোস তো শুনি, বিষয়টা কী বল?
গলা ভেজা তার আগে, নে, দিচ্ছি আমি জল।
ভুতো তখন বলল- আমার মামার হবে বিয়ে,
পাত্রী খোঁজা চলছেই রোজ হাজার ঘটক দিয়ে।
পাত্রী খুঁজে হদ্দ হয়ে থামল যখন সবাই,
আমিই তখন বলি–– একবার বৌবাজারে যাই!
তাই এসেছি কাকভোরেতে। বৌ এখানে খুঁজে
একটা কিছু হিল্লে করে ফিরব জেনে বুঝে।
কিন্তু কোথায় বৌ এখানে! এ’ তো একটা বাজার
আর বাড়িঘর গৃহস্থদের লোক সমাগম হাজার!
লোকটা বলে–– অনেক বছর আগের কথা সেটা,
এই এলাকার অনেকেরই স্মরণে নেই যেটা।

ওই মতিলাল বংশের এক ছেলে মরার পরে,
বিধবা বৌ চাইছিল না থাকতে শ্বশুর ঘরে।
তখন একটা বাজার দিলেন শ্বশুর সাথে বাড়ি,
যাতে বৌমার ঘরেতে রোজ চাপে ভাতের হাঁড়ি।
সেদিনকার ওই বিখ্যাত “বউঠাকুরাণীর বাজার”,
সবার মুখে ঘুরে ফিরে হয়েছে, ‘বৌবাজার’।
বহুত রকম জিনিস পাবি এই বাজারে আছে,
কিন্তু মোটেই বৌ পাবি না। বল গে’ মামার কাছে।।