ছড়া - কবিতা ২ । চৈত্র ১৪৩১


   ডাকছে ওরা













শ্যামাচরণ  কর্মকার

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ



ওই দেখেছ আগান-বাগান
        আম, জাম, বট গাছের সারি
চাইছে সবাই কাছেই পেতে
        ডাকলে কি আর থাকতে পারি?
মন ছটফট, ওই দিকে চোখ,
        ইচ্ছে করে ওদের ছুঁতে
কিন্তু মা গো তোমার ভয়ে
        পারিই নাকি আর বেরুতে?
 
বন্ধুরা সব ডাক দিয়ে যায়
        জানলা দিয়ে খেলতে ডাকে
কেমন করে ভুলব ওদের?
        ভুলব খেলার বিকেলটাকে?
গাছগাছালির গন্ধ খুঁজি,
        চাই মিতালি, চাই না আড়ি
ওদের ছেড়ে একলা ঘরে
        আমি কি আর থাকতে পারি?
 
ফড়িং বলে, খুব বোকা তুই,
        আয় বেরিয়ে ঘরটা ছেড়ে
প্রজাপতি ডাকছে কাছে
        রঙবাহারি পাখনা নেড়ে
দোয়েল, কোয়েল, শালিক,
        টিয়া, টুনটুনিরাও উড়িয়ে পাখা
বলছে ডেকে, আয় বাগানে
        ভাল্লাগে তোর একলা থাকা?
 
ওদের সে-ডাক কক্ষনো কি
        যায় না মা গো তোমার কানে?
ইচ্ছে করে মনকে ডোবাই
        খেলাধূলায়, পাখির গানে
ওরা আমায় নিত্যি ডাকে
        কিন্তু যাওয়ায় তোমার মানা
এমন হলে উড়বে কোথায়
        আমার মনের ইচ্ছেডানা?
 
ব‌ই নিয়ে আর থাকব কত?
        ভাল্লাগে কার থাকতে ঘরে?
গাছপালা - মাঠ- খেলার বিকেল
        হাতছানি দেয়, আকুল করে
একটু ওদের চাই মা ছুঁতে
        দাও না আমায় পড়ার ছুটি
ছেলেরা সব খেলছে মাঠে
        ওদের সঙ্গে বাঁধব জুটি
 
মায়ের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই
        বলল, ওসব বায়না রাখো
পড়ায় যদি মন না বসে
        স্যারের দেওয়া ছবিই আঁকো
মায়ের কথায় ব‌ই রেখে সে
        হাতে নিল আঁকার খাতা
ভিড় জমাল কত‌ই ছবি
        আর ভেজাল চোখের পাতা!
 
দু'গাল বেয়ে গড়াচ্ছে জল,
        জল জমেছে চোখের কোলে
ছেলেবেলার স্বপ্ন হারায়,
        মনটা কাঁদে বিকেল হলে