কিরণময় নন্দী হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ
| | ১ম : এই তোরা সব কোথায় আছিস.... আয় সবে যাই দলবেঁধে মাঠে,
স্কুল ছুটি সেই চারটে বেলায়, তবুও দেরি.... ওই দেখ সূয্যি মামা গোধূলি ঘাটে!
২য় : আজ যাবো না খেলার মাঠে একটু পরে মায়ের সাথে টিউশনে যাবো,
তুই তো জানিস অংকে এবার খুব কম নাম্বার দিব্যি দিয়ে বলেছি, “সবার চেয়ে বেশি পাবো মাগো!”
স্কুলের শেষে আবার পড়া ভালো লাগে কি কারও?
ইচ্ছে করে তোর মতনই ছুটে বেড়ায় মাঠের শেষে নতুন মাঠ আরও আরও....
১ম : ধূর... আমিও তো সাতাত্তর গুন গুলো... সব কাটা,
সরল টা আমার হাতে ভীষণ কঠিন নম্বর দেখে মা দিয়েছে গোটা কয়েক চাঁটা।
তবে বাবা মাকে দিয়েছে বকা বুঝলে, “এখন খুকির শেখার বয়েস,
সাতাত্তর টা সাতানব্বই হতে কতক্ষণ ও এখন খেলার ছলে শিখছে বেশ!”
২য় : তোর বাবা ভালো রে বেশ তোর খেলার পরে নেই মানা,
আমার এখন দুঃসহ শৈশব ইচ্ছে করে আকাশ গাঙে মেলে দিই ডানা....
ছুটে বেড়াই সবুজ মাঠে পায়ের নিচে শীতল শিশির মাখা,
ইচ্ছে করে রাঙা ঘোড়ায় ছুটি তেপান্তরে এক নিমেষে বীরপুরুষের মরা নদীর সোঁতা!
১ম : বেশ বেশ... তুই তো কথা বলিস বেশ একেবারে তোর কথাতে কবিতা সব আঁকা,
তোর কথাতে অমল বুঝি খুঁজে পেতো পাহাড় গাঁ দইওয়ালা চুপটি করে শুনতো সবই, পাশে রেখে
দইয়ের ঝাঁকা।
তোর কথাতে ফটিকের একেবারে হতো না ছুটি খুঁজে পেতো বেঁচে থাকার মানে,
শহর বুকেও খুঁজে পেতো সবুজ শৈশব সে তো হাসি-খুশি আর নাচে-গানে।
২য় : সত্যি বলছি পড়ার ব্যাগ বড্ড ভারী তারপরে নাচ, গান আর আঁকা সবকিছুতেই এগিয়ে চলো রাতের ঘুমেও স্বপ্নগুলো ফাঁকা ফাঁকা।
নিজের জন্য সময় কই বৃষ্টি দিনে ভাসায় না কাগজের নৌকা,
গল্প বলার সময় নেই কারও শুধু মোবাইলে ব্যস্ততা।
১ম : সন্ধ্যে হয়ে এলো বন্ধু ফিরে যাই বাড়ি,
তোর কষ্টগুলো বেশ ভাবায় আমায় সবুজ মাঠের সাথে তোর যে আড়ি।
তবুও সময় পেলে আঁকবি তুই সাগর জলে পালতোলা জাহাজ,
নয়তো পাহাড়ি ঝর্ণার তীরে উঁচু উঁচু পাইনের সাজ।
২য় জনের মা : ভুল করেছি খোকা
আমার ভুলেই গেছি তোর ভালোলাগা,
বিকেলবেলা ফুটবলে মন তোর সবুজ মাঠ আর দিগন্তজোড়া শোভা।
নাম্বারে পিছিয়ে গেলে তুই মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরে,
পাড়াপড়শি ফিকফিকে হাসাহাসি রাগে মন গরগর করে।
এক নিমেষে সাঁতরে তোর এপার ওপার পুকুর ফালাফালা,
গামছা লোটায় ঝিনুক নিয়ে বাড়ি ফেরা ছুটির দুপুরবেলা।
সেই নেশাতে ছেদ টেনেছি রোজ বেড়েছে পড়ার ব্যাগের ভার,
আমি তো আর অবুর মা নই নদীর ওপারে বাঁধবো নতুন ঘর!
২য় : আমার মিষ্টি মা যে তুমি আমি তোমায় ভীষণ ভালোবাসি,
দেখো এবার মন দিয়ে করবো লেখাপড়া আর ফুটবলে মন হাসিখুশি।
|